Monday, October 3, 2022

Geography Chapter 4




 ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ

1. ভূ-প্রকৃতিকে ক’টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় ও কী কী? 


উঃ তিনটি শ্রেণীতে। পাহাড় ও পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি। 


2. পাহাড় কাকে বলে? উদাহরণ দাও। 

উঃ অল্প উচ্চ (৩০০ থেকে ১০০০ মিটার) এবং অল্পদূর বিস্তৃত শিলাস্তূপকে বলে পাহাড়। যেমন - অযোধ্যা, বাগমুণ্ডি, শুশুনিয়া, রাজমহল পাহাড়। 


3. পর্বত কাকে বলে? 


উঃ সুউচ্চ শৃঙ্গ বিশিষ্ট, অসমান এবং সুদূর বিস্তৃত শিলাস্তূপকে পর্বত বলে। যেমন হিমালয়। 


4. পর্বতকে ক’ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী? 


উঃ চারভাগে। ভঙ্গিল পর্বত, স্তূপ পর্বত, ক্ষয়জাত পর্বত, আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত। 


5. ভঙ্গিল পর্বত কাকে বলে? 


উঃ বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে শিলায় ঢেউ এর মত ভাঁজ পড়ে যে পর্বতের সৃষ্টি হয় তাকে বলে ভঙ্গিল পর্বত। 


6. ভঙ্গিল পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ কর। 


উঃ ১। ভাঁজ পড়ে এই পর্বতের সৃষ্টি এবং এজন্য নানাধরণের অনেক ভাঁজ থাকে। 


২। দুটি ভাঁজের মাঝে যে উঁচু অংশ থাকে তাকে বলে অধোভঙ্গ এবং ভাঁজের ওপরের উঁচু অংশকে বলে ঊর্ধ্বভঙ্গ। 


৩। সমুদ্রগর্ভ থেকে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয় বলে পর্বতের বিভিন্ন অংশে অনেক জীবাশ্ম দেখা যায়।


৪। চাপ অত্যন্ত বেশি হলে এক বাহু থেকে একেবারে আলাদাহয়ে স্থানচ্যুত হয়। একে বলে ন্যাপ। 


7. দুটি প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতের নাম লেখ? 


উঃ ভারতের আরাবল্লী ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপালেশিয়ান। 


8. দুটি নবীন ভঙ্গিল পর্বতের নাম লেখ। 


উঃ এশিয়ার হিমালয় পর্বত এবং ইউরোপের আল্পস পর্বত। 


9. রিকাম্ববেন্ট ফোল্ড কাকে বলে? 


উঃ ভঙ্গিল পর্বতে ঊর্ধ্বভঙ্গের দুই বাহু ক্রমশ হেলতে হেলতে যদি একটি বাহু অপর একটি বাহুর ওপর শায়িত হয়, তখন তাকে বলে রিকাম্ববেণ্ট ফ্লোল্ড। 


10. ওভারথ্রাস্ট কাকে বলে? 


উঃ প্রচণ্ড চাপ এবং টানের ফলে যখন ঊর্ধ্বভঙ্গের (ভঙ্গিল পর্বতে) একটি বাহু অপর একটি বাহু থেকে আলাদা হয়ে কিছুটা এগিয়ে যায়, তখন তাকে বলে ওভারফ্রাস্ট। 


11. ন্যাপ কী? 


উঃ ভঙ্গিল পর্বত গঠনের সময় চাপ অত্যন্ত বেশি হলে ঊর্ধ্বভঙ্গের এক বাহু অন্য বাহু থেকে একেবারে আলাদা হয়ে স্থানচ্যুত হয়। একে ন্যাপ বলে। 


12. প্রতিসম ও অপ্রতিসম ভাঁজ কী? 


উঃ ভঙ্গিল পর্বতে ঊর্ধ্বভঙ্গের দু-দিকের বাহু যদি সমানভাবে হেলানো থাকে তবে তাকে প্রতিসম ভাঁজ বলে। আর যদি একদিকের বাহুর তুলনায় অন্যদিকের বাহু একটু বেশি খাড়া থাকে তখন তাকে বলে অপ্রতিসম ভাঁজ। 


13. স্তূপ পর্বত কাকে বলে? 


উঃ ভূ-আলোড়নজনিত টান ও সংনমনের প্রভাবে যখন ভূত্বকের শিলাস্তরে ফাটল ও চ্যুতি দেখা দেয় এবং তার ফলে চ্যুতির একদিকের শিলাস্তর স্তূপাকারে ওপরে উঠে পড়ে পর্বতের সৃষ্টি করে, তখন তাকে বলে স্তূপ পর্বত। যেমন – ভারতের সাতপুরা, ফ্রান্সের ভোজ। 


14. স্তূপ পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ কর। 


উঃ ১। স্তূপ পর্বতের দুপাশের ঢাল বেশ খাড়া এবং মাথা কিছুটা চ্যাপ্টা হয়। 


২। ভঙ্গিল পর্বতের মত অত উঁচু হয় না বা অত সুবিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে স্তূপ পর্বত দেখা যায় না। 


15. গ্রস্ত উপত্যকা কাকে বলে? 


উঃ দুটি সমান্তরাল চ্যুতিরেখার মধ্যবর্তী অংশ উঁচু না হয়ে কোন কারণে নিচে বসে গেলে ঐ অবনত বা বসে যাওয়া অংশকে বলে গ্রস্ত উপত্যকা। যেমন –ফ্রান্সের ভোজ এবং জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট এই দুই স্তূপ পর্বতের মাঝখানে আছে গ্রাবেন জাতীয় গ্রস্ত উপত্যকা। 


16. চ্যুতিরেখা ও চ্যুতিতল কী? 


উঃ ভূ-ত্বকে যে রেখা বরাবর চ্যুতি ঘটে তাকে চ্যুতিরেখা এবং যে তলে চ্যুতি ঘটে তাকে চ্যুতিতল বলে। 


17. গ্রাবেন কী? 


উঃ যে গ্রস্ত উপত্যকার দু-পাশে স্তূপ পর্বত থাকে, তাকে গ্রাবেন জাতীয় গ্রস্ত উপত্যকা বলে। 


18. জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট কী জাতীয় পর্বত? 


উঃ স্তুপ পর্বত। 


19. আগ্নেয় পর্বত কাকে বলে? 


উঃ পৃথিবীর অভ্যন্তরে উত্তপ্ত গলিত পদার্থ বা মাগমা কখনো কখনো ভূত্বকের কোনো গভীর ফাটল বা সুড়ঙ্গপথ ধরে ওপরে উঠে আসে এবং নির্গমন মুখের চারধারে স্তূপীকৃত হয়ে জমতে জমতে পর্বতের আকার ধারণ করে। এইভাবে আগ্নেয় পদার্থ সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি হয় বলে একে আগ্নেয় পর্বত বা সঞ্চয়জাত পর্বত বলে। যেমন- ভারতের ব্যারেন, নারকোণ্ডাম। 


20. আগ্নেয় পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ কর। 


উঃ ১। আগ্নেয় পর্বত কিছুটা ত্রিভুজ বা শঙ্কুর মত। 


২। এর চূড়ায় একটি মুখ থাকে, একে জ্বালামুখ বলে। 


৩। বড় বড় আগ্নেয়গিরির একাধিক জ্বালামুখ থাকে। এর মধ্যে প্রথম যে মুখটি দিয়ে অগ্ন্যুৎপাত হয় তাকে প্রধান বা মুখ্য জ্বালামুখ এবং পরবর্তীকালে অন্যান্য যেসব মুখ সৃষ্টি হয় সেগুলিকে অপ্রধান জ্বালামুখ বলে। 


৪। জ্বালামুখ একটি নলাকৃতি পথের মাধ্যমে ভূ-গর্ভের ম্যাগমা গহ্বরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। 


৫। আগ্নেয় পর্বতের চারপাশে যথেষ্ট খাড়া ঢাল থাকে। 


৬। আগ্নেয় পর্বতের উচ্চতা মাঝারি ধরণের হয়। 


21. আকৃতি ও গঠন অনুসারে আগ্নেয় পর্বত কয় প্রকার ও কী কী? 


উঃ চারপ্রকার। 


১। শঙ্কু বা মোচার মত আকৃতি। 


২। গম্বুজের মত আকৃতি বিশিষ্ট আগ্নেয় পর্বত। 


৩। বিস্ফোরণ জ্বালামুখ-বিশিষ্ট আগ্নেয় পর্বত। 


৪। মিশ্র-শঙ্কু আকৃতির আগ্নেয় পর্বত। 


22. অগ্ন্যুৎপাতের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি অনুসারে আগ্নেয় পর্বত কয় প্রকার ও কী কী? 


উঃ তিন প্রকার। 


১। জীবন্ত বা সক্রিয় আগ্নেয় পর্বত। যেমন – ইতালির ভিসুভিয়াস। 


২। সুপ্ত আগ্নেয় পর্বত। যেমন – জাপানের ফুজিয়ামা। 


৩। মৃত আগ্নেয় পর্বত। যেমন –মায়ানমারের পোপা। 


23. জ্বালামুখ কী? 


উঃ আগ্নেয় পর্বতের চূড়ায় একটি মুখ থাকে যার মধ্য দিয়ে অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাকে জ্বালামুখ বলে। 


24. প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা কী? 


উঃ প্রশান্ত মহাসাগরকে বলয়ের মতো ঘিরে আছে যে আগ্নেয় গিরিমণ্ডল তাকেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা বলে। 


25. অগ্ন্যুৎপাতের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুসারে আগ্নেয় পর্বতের শ্রেণিবিভাগ কর। 


উঃ ১। জীবন্ত আগ্নেয়গিরিঃ 


ক। অবিরাম আগ্নেয়গিরি – হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মৌনালৌয়া, পশ্চিমভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের মাউণ্ট পিলি, ইতালির ভিসুভিয়াস। 


খ। সবিরাম আগ্নেয়গিরি – ইতালির স্ট্রোম্বলি, ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া, আলাস্কার মাউণ্ট ম্যাজমা, ভারতের ব্যারেন। 


২। সুপ্ত আগ্নেয়গিরি – জাপানের মাউণ্ট ফুজি (ফুজিয়ামা), মেক্সিকোর পারিকুতিন, আফ্রিকার মাউণ্ট কেনিয়া। 


৩। মৃত আগ্নেয়গিরি – মায়ানমারের মাউন্ট পোপো, মেস্কিকোর কটোপাস্কি, চিম্বোরাজো, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নারকোণ্ডাম। 


26. ভিসুভিয়াস কী জাতীয় পর্বত? 


উঃ জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। 


27. ভারতের দুটি আগ্নেয় পর্বতের নাম লেখ। 


উঃ আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ব্যারেন এবং নারকোণ্ডাম। 


28. হিমালয় পর্বতমালা কোন শ্রেণির পর্বত? 


উঃ নবীন ভঙ্গিল পর্বত। 


29. টেথিস সাগরের অবস্থান কোথায় ছিল? 


উঃ বর্তমানে হিমালয় পর্বতশ্রেণী যে অঞ্চলে বিস্তৃত আছে, সেখানে একসময় টেথিস সাগর ছিল। 


30. গিরিজনি আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট কয়েকটি পর্বতের নাম লেখো। 


উঃ আন্দিজ, আল্পস, আটালাস, হিমালয় পর্বত ইত্যাদি। 


31. গ্রীক শব্দ ‘ওরস’ এর অর্থ কী? 


উঃ পর্বত। 


32. মহাদেশীয় চলনতত্ত্বটি কে কবে প্রকাশ করেন? 


উঃ ১৯১২ খ্রীষ্টাব্দে আলফ্রেড উইলসন। 


33. পাতসংস্থানতত্ত্ব কে সর্বপ্রথম প্রকাশ করেন? 


উঃ মার্কিন ভূবিজ্ঞানী উইলসন। 


34. পাত সংস্থান মতবাদের প্রকৃত স্রস্টা কে? 


উঃ ফরাসী ভূবিজ্ঞানী পিঁচো। 


35. ভূবিজ্ঞানীদের মতে কটি পাতের সমন্বয়ে ভূত্বক গঠিত? 


উঃ ১১ টি প্রধান পাত এবং ২০ টি অপ্রধান পাত। 


36. কয়েকটি স্তূপ পর্বতের নাম লেখো। 


উঃ ফ্রান্সের ভোজ, জার্মানীর ব্ল্যাকফরেস্ট, স্কটল্যাণ্ডের চেভিয়ট, ভারতের নীলগিরি, সাতপুরা ও বিন্ধ্যপর্বত, আফ্রিকার ড্রাকেন্সবার্গ, আমেরিকার হেনরিপর্বত, ব্রাজিলের ব্যাণ্ডিভার, জার্মানির কিওলেন ইত্যাদি। 


37. কয়েকটি গ্রস্ত উপত্যকার নাম লেখো। 


উঃ ফ্রান্সের ভোজ ও জার্মানির ব্ল্যাকফরেস্ট দুটি স্তূপ পর্বত এবং তাদের মাঝে অবস্থিত রাইন নদীর উপত্যকা গ্রস্ত উপত্যকা। ভারতের বিন্ধ্য ও সাতপুরা দুটি স্তুপ পর্বত এবং তাদের মাঝে অবস্থিত নর্মদা নদীর উপত্যকা গ্রস্ত উপত্যকা। 


38. একটি শঙ্কু বা মোচাকৃতি আগ্নেয়গিরির নাম লেখো। 


উঃ হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মৌনালোয়া। 


39. মিশ্র শঙ্কুবিশিষ্ট আগ্নেয়গিরির দুটি উদাহরণ দাও? 


উঃ মেক্সিকোর ওরিজাবা, চিম্বারাজো। 


40. একটি গম্বুজ আকৃতির আগ্নেয়গিরির নাম লেখো। 


উঃ পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের মাউণ্ট পিলি। 


41. দুটি বিস্ফোরণ জ্বালামুখবিশিষ্ট আগ্নেয়গিরির নাম লেখো। 


উঃ আইসল্যান্ডের ক্রাফলা, ইন্দনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া। 


42. কয়েকটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরির নাম লেখো। 


উঃ হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মৌনালৌয়া, পশ্চিমভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের মাউণ্ট পিলি, ইতালির ভিসুভিয়াস।ইতালির স্ট্রোম্বলি, ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া, আলাস্কার মাউণ্ট ম্যাজমা, ভারতের ব্যারেন। 


43. কয়েকটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরির নাম লেখো। 


উঃ জাপানের মাউণ্ট ফুজি (ফুজিয়ামা), মেক্সিকোর পারিকুতিন, আফ্রিকার মাউণ্ট কেনিয়া। 


44. কয়েকটি মৃত আগ্নেয়গিরির নাম লেখো। 


উঃ মায়ানমারের মাউন্ট পোপো, মেস্কিকোর কটোপাস্কি, চিম্বোরাজো, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নারকোণ্ডাম। 


45. পৃথিবীর উচ্চতম আগ্নেয়গিরির নাম কী? 


উঃ হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মৌনালৌয়া। 


46. কাকে ভূমধ্যসাগরের আলোকস্তম্ভ বলা হয়? 


উঃ ইতালির স্ট্রোম্বলিকে। 


47. পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বিধ্বংসী আগ্নেয়গিরির নাম কী? 


উঃ পশ্চিমভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের মাউণ্ট পিলি। 


48. ভারতের একমাত্র জীবন্ত আগ্নেয়গিরির নাম কী? 


উঃ ব্যারেন। 


49. ক্ষয়জাত পর্বত কাকে বলে? 


উঃ কখনো কখনো বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির কশয়কার্যের ফলে প্রাচীন পার্বত্যভূমি বা উচ্চভূমির নরম শিলা গঠিত অংশসমূহ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সমভূমির আকার ধারণ করে, কিন্তু কঠিন শিলা-গঠিত অংশসমূহ বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত না হয়ে উচ্চভূমি বা পর্বতের আকারে দাঁড়িয়ে থাকে। এই ধরণের পর্বতকে ক্ষয়জাত পর্বত বলে। যেমন – আরাবল্লী। 


50. ক্ষয়জাত পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ কর। 


উঃ ১। শিখরদেশ তীক্ষ্ম বা ছুঁচালো নয়। 


২। ঢাল খুব খাড়া নয়। 


৩। এগুলির উচ্চতা খুব বেশি হয় না। 


51. কয়েকটি ক্ষয়জাত পর্বতের নাম লেখো। 


উঃ উত্তর আমেরিকার অ্যাপালচিয়ান ও সিয়েবানেভেদা, ইউরোপের গ্লিণ্টারটিন, অস্ট্রেলিয়ার হামার্সলেরেঞ্জ, ভারতের আরাবল্লী। 


52. ভারতের দুটি ক্ষয়জাত পর্বতের নাম লেখ। 


উঃ রাজস্থানের আরাবল্লী ও বিহারের রাজমহল। 


53. পশ্চিমবঙ্গের শুশুনিয়া কী জাতীয় পর্বত? 


উঃ ক্ষয়জাত পর্বত। 


54. ক্ষয়জাত পর্বতকে অবশিষ্ট পর্বত বলা হয় কেন? 


উঃ মূল পর্বত বা মলভূমির অবশিষ্ট অংশ নিয়ে গথিত হয় বলে ক্ষয়জাত পর্বত অপর নাম অবশিষ্ট পর্বত। 


55. মালভূমি কাকে বলে? 


উঃ সমুদ্রতল থেকে বেশ উঁচুতে অবস্থিত (প্রায় ৩০০-৬০০মিটার) উপরিভাগ যথেষ্ট তরঙ্গায়িত বা বন্ধুর এবং চারদিকে খাড়াই ঢালযুক্ত - এরকম বিস্তৃত ভূমিকে বলে মালভূমি। যেমন- তিব্বতের মালভূমি, ছোটনাগপুরের মালভূমি। 


56. মালভূমি সৃষ্টির কারণগুলি উল্লেখ কর। 


উঃ প্রধানত তিনটি কারণে মালভূমি সৃষ্টি হয়। যথা- 


১। ভূ-আলোড়নের ফলে। যেমন- দাক্ষিণাত্য মালভূমি। 


২। প্রাকৃতিক ক্ষয়কারী শক্তিসমূহের কার্যের ফলে। যেমন – ছোটনাগপুর মালভূমি। 


৩। লাভা সঞ্চয়ের ফলে। যেমন – দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশ লাভা মালভূমি। 


57. গঠনের বৈশিষ্ট্য অনুসারে মালভূমিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী? 


উঃ তিন ভাগে ভাগ করা যায়।যথা- 


১। পর্বতবেষ্টিত মালভূমি 


২। ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি 


৩। লাভা মালভূমি। 


58. পর্বত বেষ্টিত মালভূমি কাকে বলে? 


উঃ ভূআলোড়নের ফলে ভঙ্গিল পর্বত তৈরি হবার সময় সমান্তরাল পর্বশ্রেণির মাঝখানের জায়গাগুলি চাপের জন্য উঁচু হয়ে মালভূমি সৃষ্টি হয়। এই মালভূমির চারদিকে পর্বত থাকে বলে একে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলে। যেমন – তিব্বতের মালভূমি। 


59. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কাকে বলে? 


উঃ নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি প্রকৃতিক ক্ষয়কারী শক্তির মাধ্যমে প্রাচীন মালভূমি অঞ্চল ধীরে ধীরে ক্ষয় হয় এবং উচ্চতাও হ্রাস পায়। নদ-নদী এবং এর শাখা-প্রধাখা মালভূমিটিকে ধীরে ধীরে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে ফেলে। এইভাবে কোন বিস্তৃত মালভূমি অঞ্চল সংকীর্ণ নদী উপত্যকার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হলে তাকে বলে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি। যেমন- ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি।


60. লাভা মালভূমি কাকে বলে? 


উঃ অনেক সময় ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা দূত্বকের কোন ফাটল বা দুর্বল অংশের মধ্যে দিয়ে নির্গত হয়ে ভূপৃষ্ঠে লাভারূপে সঞ্চিত হয় এবং ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা ও কঠিন হয়ে মালভূমি সৃষ্টি করে। একে লাভাগঠিত মালভূমি বলে। যেমন – ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি বা ড্রেকান ট্রাপ। 


61. পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমির নাম কী? 


উঃ পামীর মালভূমি (গড় উচ্চতা ৪৮০০ মিটার)। 


62. মালভূমি সৃষ্টির কারণগুলি কী কী? 


উঃ ভূ-আলোড়ন, প্রাকৃতিক ক্ষয়কারী শক্তিসমূহের কাজ এবং লাভ সঞ্চয়। 


63. মালভূমিকে কয় শ্রেণিতে ভাগ করা যায় কী কী? 


উঃ তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। পর্বতবেষ্টিত মালভুমি, ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি, লাভা গঠিত মালভূমি। 


64. পামীর মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয় কেন? 


উঃ অন্যান্য মালভূমির মতো পামীরের উপরিভাগ কিছুটা সমতল এবং চারপাশের ঢাল খাড়া। পামীরের পরিচয় শুধু মালভূমি হিসাবেই নয়, এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি। এর উচ্চতা প্রায় ৪৮০০ মিটার। এজন্য পামীরকে পৃথিবীর ছাদ বলে। 


65. একটি লাভাগঠিত মালভূমির নাম লেখ। 


উঃ মহারাষ্ট্রের লাভ মালভূমি বা ড্রেকান ট্র্যাপ অঞ্চল। 


66. কাকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয়? 


উঃ পামীর মালভূমিকে। 


67. পামীর মালভূমির উচ্চতা কত? 


উঃ ৪৮০০ ফুট। 


68. পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমির নাম কী? এর দৈর্ঘ্য কত? 


উঃ তিব্বতের মালভূমি। 


69. পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মালভূমির নাম কী? 


উঃ বলিভিয়ার মালভূমি। 


70. লাদাখ মালভূমির গড় উচ্চতা কত? 


উঃ ৪০০০ মিটার। 


71. পশ্চিমবঙ্গের একটি মালভূমির নাম লেখো। এর উচ্চতা কত? 


উঃ গোর্গাবুরু। এর উচ্চতা ৬৭৭ মিটার। 


72. ভূপৃষ্ঠের ক্ষয়সাধনের ফলে সৃষ্ট কয়েকটি মালভূমির নাম লেখ। 


উঃ ক্যালিডোনিয়ার মালভূমি, ফিজেল্ড মাওভূমি। 


73. লাভা সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট কয়েকটি মালভূমির নাম লেখ। 


উঃ ভারতের মালব মালভূমি ও মহারাষ্ট্রের মালভূমি বা ড্রেকান ট্র্যাপ, আফ্রিকার আবিসিনিয়ার মালভূমি, উত্তর আমেরিকার কলম্বিয়া। 


74. কয়েকটি মহাদেশীয় মালভূমি বা শিল্ড মালভূমির নাম লেখ। 


উঃ আফ্রিকার মালভূমি, আরবের মালভূমি, ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি, ব্রাজিলের মালভূমি, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মালভূমি। 


75. কয়েকটি পর্বতবেষ্টিত মালভূমির নাম লেখ। 


উঃ পামীর মালভূমি, তিব্বতের মালভূমি, ছয়ডাম বা শৈদাম মালভূমি, সিনকিয়াং মালভূমি, ইরানের মালভূমি,অ্যানাটোলিয়া মালভূমি। 


76. একটি তির্যক মালভূমির নাম লেখ। 


উঃ স্পেনের মেসেটা মালভূমি, মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি পামভূমি, ফান্সের প্যারিস অববাহিকা। 


77. একটি চ্যুতি মালভূমির নাম লেখ। 


উঃ ফান্সের সেন্ট্রাল ম্যাসিফ। 


78. একটি ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির নাম লেখ। 


উঃ কর্ণাটকের মালনাদ অঞ্চল, স্কটল্যাণ্ডের ও ওয়েলসের উচ্চভূমি ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির অন্তর্গত। 


79. সমভূমি কাকে বলে? 


উঃ স্থলভাগের যেসব বিস্তীর্ণ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অল্প উঁচু এবং সামান্য ঢালু, সেই ভূভাগগুলিকে সমভূমি বলে। 


80. উৎপত্তি ও ভূমিরূপের পার্থক্য অনুসারে সমভূমিকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় ও কী কী? 


উঃ তিনটি শ্রেণিতে। যথা- 


১) ভূ-গাঠনিক সমভূমি 


২) ক্ষয়জাত সমভূমি 


৩) সঞ্চয়জাত সমভূমি। 


81. প্লাবন সমভূমি কাকে বলে? 


উঃ বর্ষাকালে বন্যার জল স্বাভাবিক বাঁধ অতিক্রম করে বিস্তীর্ণ এলাকাকে প্লাবিত করে। বন্যার জল অপসারিত হলে প্লাবিত অঞ্চলে পলি জমা হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে প্লাবন সমভূমি বলে। 


82. পলি সমভূমি কাকে বলে? 


উঃ নদীর মধ্যগতিতে জলের পরিমাণ বাড়লে (উপনদীর মিশ্রণে) এবং প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটলে নদীখাত অতিরিক্ত জল ধরে রাখতে পারে না। দুই কূল ছাপিয়ে নদী প্লাবন ঘটায়, উপত্যকার পলি, প্লাবন ভূমিতে ছড়িয়ে সৃষ্টি করে প্লাবন সমভূমি। 


83. ব-দ্বীপ সমভূমি কাকে বলে? 


উঃ মোহনার কাছে পৌঁছে নদী একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই শাখাগুলির মাঝে পলি সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি সৃষ্টি হয় তা দেখতে অনেকটা মাত্রাহীন বাংলা ‘ব’-অক্ষরের মতো হয়। তাই এই সমভূমিকে ব-দ্বীপ সমভূমি বলে। 


84. পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ সমভূমির নাম লেখ। 


উঃ গঙ্গা ব-দ্বীপ সমভূমি। 


85. ভারতের সর্ববৃহৎ সঞ্চয়জাত সমভূমি কোনটি? 


উঃ উত্তর ভারতের সমভূমি।এর অন্য নাম সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি। 


86. একটি উন্নত ও একটি অবনত সমভূমির নাম লেখ। 


উঃ উন্নত সমভূমি – মেক্সিকো উপসাগরের তীরবর্তী উপসাগরীয় সমভূমি। 


অবনত সমভূমি – তুরানের নিম্নভূমি। 


87. একটি সমপ্রায়ভূমির নাম লেখ। 


উঃ মিশরের সিনাই অঞ্চল। 


88. একটি পলিগঠিত সমভূমির নাম লেখ। 


উঃ গঙ্গা সমভূমি। 


89. একটি বন্যাগঠিত সমভূমির নাম লেখ। 


উঃ মিশরের নীলনদের সমভূমি। 


90. একটি উপকূলের সমভূমির নাম লেখ। 


উঃ করমণ্ডল সমভূমি। 


91. একটি ব-দ্বীপ সমভুমির নাম লেখ। 


উঃ সুন্দরবনের ব-দ্বীপ সমভূমি। 


92. একটি হিমবাহ সমভূমির নাম লেখ। 


উঃ কানাডার উত্তরাংশ এবং সাইবেরিয়ার সমভূমি। 


93. একটি হ্রদ সমভূমির নাম লেখ। 


উঃ মালব মালভূমির দক্ষিণাংশ। 


94. পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ সমভূমির নাম লেখ। 


উঃ গঙ্গা ব-দ্বীপ সমভূমি। 


95. একটি উন্নত ও একটি অবনত সমভূমির নাম লেখ। 


উঃ উন্নত সমভূমি – মেক্সিকো উপসাগরের তীরবর্তী উপসাগরীয় সমভূমি। 


অবনত সমভূমি – তুরানের নিম্নভূমি। 


96. ভারতের সর্ববৃহৎ সঞ্চয়জাত সমভূমি কোনটি? 


উঃ উত্তর ভারতের সমভূমি।এর অন্য নাম সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি। 


97. একটি লোয়েস সমভূমির নাম লেখ। 


উঃ উত্তর চীনের হোয়াংহো নদী অববাহিকায় লোয়েস সমভূমির সৃষ্টি হয়েছে। 


98. কোথায় বাজাদা বা মরুমরুভূমি দেখা যায়? 


উঃ আফ্রিকা মহাদেশে সাহারীয় আটলাসের পাদদেশে শটসের জলাভুমির সন্নিকট বাজাদা দেখা যায়। 


99. পেডিমেন্ট কোথায় দেখা যায়? 


উঃ সাহারা মরভুমির উত্তরে আতলাস পর্বতের পাদদেশে পেডিমেণ্ট দেখা যায়। 


100. মোনাডনক কী? কোথায় দেখা যায়? 


উঃ সমপ্রায়ভূমির মধ্যস্থিত অবশিষ্ট পাহাড়কে মোনাডনক বলা হয়। মেঘালয়ে দেখা যায়।

No comments:

Post a Comment