Friday, October 14, 2022

Environmental Science Chapter: 5

 

পরিবেশের অবক্ষয় ও দূষণ



1. বায়ুদূষণের সংজ্ঞা দাও। 

উঃ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে অনিষ্টকর পদার্থের সমাবেশ ঘটলে তা মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতি করে এবং তখন তাকে বায়ুদূষণ বলে। 


2. বায়ুর মূল উপাদান গুলি কী কী? 

উঃ নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, আর্গন, কার্বন ডাই অক্সাইড, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ইত্যাদি। 


3. বায়ুমণ্ডলের আবরণকে মুখ্যতঃ কি কি স্তরে ভাগ করা হয়? 

উঃ ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্রাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার ও থার্মোস্ফিয়ার। 


4. বায়ুর বেশিরভাগ অংশ কোন স্তরে বিদ্যমান? 

উঃ ট্রপোস্ফিয়ারে। 


5. ভূস্তর থেকে কত উচ্চতা পর্যন্ত ট্রপোস্ফিয়ার বর্তমান? 

উঃ প্রায় ১৫ কিমি পর্যন্ত। 


6. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোন গ্যাসের লেয়ার দেখা যায়? 

উঃ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে। 


7. বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর পৃথিবীর জীবকে কিভাবে রক্ষা করে? 

উঃ সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনী রশ্মি বিভিন্ন জীবের উপর মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। ওজোনস্তর এই রশ্মিকে শোষণ করে এবং পৃথিবী পৃষ্ঠে পৌঁছাতে বাধা দেয়। ফলে পৃথিবীর জীবরা এই রশ্মির মারাত্মক প্রভাব থেকে রক্ষা পায়। 


8. প্রাকৃতিক উপায়ে বায়ুদূষণ কিভাবে ঘটে? 

উঃ আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত বিভিন্ন গ্যাস, ধূলিকণা, ছাই, মহাকাশ থেকে আগত মহাজাগতিক রশ্মি, উল্কা, সমুদ্র থেকে নির্গত লবণের কণা প্রভৃতির দ্বারা। 


9. দূষিত বায়ুতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী কোন যৌগের উপস্থিতি দেখা যায়? 

উঃ বেঞ্জো পাইরিন নামক জৈব যৌগের উপস্থিতি দেখা যায় সেটি ক্যানসার সৃষ্টি করে। 


10. বায়ুতে কার্বন মনোক্সাইডের (CO) উপস্থিতি প্রাণীদেহে কি ক্ষতি করে? 

উঃ কার্বন মনোক্সাইড (CO) একটি অতি বিষাক্ত গ্যাস, এটি রক্তের হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে ক্রিয়া করে কার্বক্সি হিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে ও দেহে অক্সিজেন পরিবহনের মাত্রা হ্রাস করে। এই গ্যাসের অতিমাত্রায় উপস্থিতিতে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। 


11. বায়ুতে সালফার ডাই অক্সাইডের (SO2) মাত্রা বৃদ্ধিতে প্রধান প্রধান উৎস গুলি কী কী? 

উঃ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার দহন, যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া, সালফিউরিক অ্যাসিড তৈরির কারখানা প্রভৃতি। 


12. বায়ুতে সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস মানুষের দেহে কি ব্যাঘাত ঘটায়? 

উঃ এই গ্যাস মুখ্যতঃ শ্বাসনালী ও ফুসফুসে প্রভাব ফেলে, ফলে শ্বাসঘটিত বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। 


13. অম্লবৃষ্টির জন্য প্রধানতঃ কোন গ্যাস দায়ী? 

উঃ সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেনের অক্সাইড (NOx), ওজোন (O3) প্রভৃতি। 


14. অম্লবৃষ্টিতে প্রধানতঃ কোন কোন অ্যাসিডের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়? 

উঃ মোটামুটিভাবে ৬০ ভাগ সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) এবং ৪০ ভাগ নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3)। 


15. অম্লবৃষ্টিতে জলাশয়ের উপর কি প্রভাব ফেলে? 

উঃ জলাশয়ের পি এইচ (PH) এর মান কম হওয়াতে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃত্যু ঘটে, ফলে জলাশয়টি অনুৎপাদক বলে পরিগণিত হয়। 


16. ভারতে অম্লবৃষ্টি কোন কোন অঞ্চলে দেখা যায়? 

উঃ ভারতের বিভিন্ন শিল্পপ্রধান অঞ্চল ও মেট্রো শহরগুলি যেমন মুম্বাই, চেন্নাই, দিল্লী, কলকাতা প্রভৃতি অঞ্চল। 


17. গ্রীণহাউস গ্যাস কোনগুলি? 

উঃ যে গ্যাসগুলি বাতাসে গ্রীণহাউস এফেক্ট সৃষ্টি করে তাদেরকে গ্রীণহাউস গ্যাস বলে। যেমন – কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, ক্লোরো ফ্লুরো কার্বন, নাইট্রাস অক্সাইড। 


18. গ্রীণহাউস প্রভাবে কোন কোন CFC গ্যাস বেশী দায়ী? 

উঃ ট্রাই ক্লোরো ফ্লুরো মিথেন এবং ডাই ক্লোরো ডাই ফ্লুরো মিথেন প্রভৃতি। 


19. প্রকৃতিতে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের মাত্রাধিক্যের কারণ কী? 

উঃ অরণ্যের বিনাশ এবং শিল্প ও যানবাহনের প্রসার। 


20. CFC গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের কিভাবে ক্ষতি করে? 

উঃ CFC গ্যাস বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারে উপস্থিত হলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এই গ্যাসকে ভেঙ্গে ক্লোরিন মুক্ত করে। এই মুক্ত ক্লোরিন অনুঘটকের কাজ করে এবং ওজোন ভেঙ্গে অক্সিজেনে পরিণত করে। 


21. কোন কোন যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুতে উপস্থিত কণাজাতীয় দূষক পদার্থ অপসারণ করা হয়? 

উঃ প্রধানত সাইক্লোন সেপারেটর এবং ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক সেপারেটর যন্ত্রের সাহায্যে। 


22. বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি? 

উঃ নাইট্রোজেন। 


23. ১৯৫২ সালে লণ্ডন শহরে ৪০০০ লোকের মৃত্যু কি কারণে হয়েছিল? 

উঃ বায়ুদূষণের ফলে। 


24. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে মেঘের অবস্থান দেখা যায়? 

উঃ ট্রপোস্ফিয়ারে। 


25. PAN এর পুরো নাম কী? 

উঃ পার অক্সি অ্যাসিটাইল নাইট্রেট। 


26. হাইড্রোজেন ফ্লুরাইড দ্বারা প্রাণীদেহে সৃষ্ট রোগের নাম কী? 

উঃ ফ্লুরোসিস। 


27. অম্লবৃষ্টি গঠনের প্রধান প্রধান অ্যাসিডগুলি কী কী? 

উঃ সালফার ডাই অক্সাইড, হাইড্রোজেন পারক্সাইড, ওজোন, জল। 


28. প্রশম জলের পি এইচ (PH) মান কত? 

উঃ সাত (৭)। 


29. পশ্চিমজার্মেনীর বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ার কারণ কী? 

উঃ অম্লবৃষ্টি। 


30. কলকাতায় বৃষ্টির জলের গড় পি এইচ মান কত? 

উঃ ৫.৮। 


31. সালফার ডাই অক্সাইড (SO2) দ্বারা বায়ুদূষণের সবচেয়ে বৃহত্তম উৎস কী? 

উঃ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। 


32. ক্লোরো ফ্লুরো কার্বন এর (CFC) উৎস কী? 

উঃ রেফ্রিজারেটর। 


33. প্রধান গ্রীনহাউস গ্যাসের নাম কী? 

উঃ কার্বন ডাই অক্সাইড। 


34. অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে যে গ্যাস ব্যবহার করা হয় তার নাম কী? 

উঃ হালন। 


35. অতিবেগুনী রশ্মি জীবদেহের কী ক্ষতি করে?

উঃ ত্বকের ক্যানসার সৃষ্টি করে। 


36. ওজোন হোল প্রথম কবে আবিষ্কৃত হয়? 

উঃ ১৯৮৫ সালে। 


37. ওজোন হোলের ক্ষয়ের জন্য দোষী প্রধান গ্যাসের নাম কী? 

উঃ CFC। 


38. এনভায়রনমেণ্টাল প্রোটেকশান এজেন্সী কোথায় অবস্থিত? 

উঃ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে। 


39. SPM এর পুরো নাম কী? 

উঃ Suspended Particulate Matter. 


40. লেডেড পেট্রোলে যে যৌগটি মেশানো থাকে তার নাম কী? 

উঃ টেট্রা ইথাইল লেড। 


41. অম্লবৃষ্টির ফলে ভারতের যে অভয়ারণ্য সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার নাম কী? 

উঃ ভরতপুরের পক্ষী অভয়ারণ্য। 


42. Air Pollution গ্রন্থটি কার লেখা। 

উঃ বিজ্ঞানী পার্কিন্স। 


43. গ্রীন হাউস প্রভাব কী? 

উঃ বায়ুমণ্ডলে মূলত কার্বনডাই অক্সাইডের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনাকে গ্রীনহাউস প্রভাব বলে। 


44. পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণ কী? 

উঃ জীবাশ্ম জ্বালানির দহন, জ্বালানি হিসাবে কাঠের ব্যবহার বৃদ্ধি, ক্লোরোফ্লুরো কার্বন বৃদ্ধি, নাইট্রাই অক্সাইড বৃদ্ধি ইত্যাদি। 


45. গ্লোবাল ওয়ার্মিং কী? 

উঃ সাড়া পৃথিবী জুড়ে উষ্ণতার ক্রমবর্ধমান অবস্থাকে বিজ্ঞানীরা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বলেছেন। 


46. অ্যাসিড বৃষ্টি কাকে বলে? 

উঃ শিশির, তুষার ও বৃষ্টির জলের সাথে মিশ্রিত হয়ে বাতাসে ভাসমান সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, হাইড্রোজেন ক্লোরাইড প্রভৃতি রাসায়নিক পদার্থ পৃথিবীতে যখন ঝরে পড়ে তখন তাকে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে। 


47. পৃথিবীতে কোথায় কোথায় অ্যাসিড বৃষ্টি বেশি হয়? 

উঃ কানাডা, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সুইডেন, নেদারল্যাণ্ড প্রভৃতি দেশে। 


48. ভারতে কোথায় কোথায় অ্যাসিড বৃষ্টি বেশি হয়? 

উঃ মুম্বাইয়ের চেম্বুর, মহারাষ্ট্রের পুনে, কেরালার ত্রিবান্দ্রাম। 


49. ওজোন হোল কী? 

উঃ বায়ুমণ্ডলের ১০ থেকে ৮০ কিমি উচ্চতায় স্ট্রাটোস্ফিয়ারের মধ্যে ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ প্রতিহত করার জন্য ওজোন গ্যাসের যে প্রাকৃতিক আবরণ আছে বিভিন্ন কারণে সেই স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে ওজোন হোল বলে। 


50. ওজোন হোল সৃষ্টির কারণগুলি কী? 

উঃ রঙ শিল্প, রেফ্রিজারেশন, প্লাস্টিক শিল্প প্রভৃতি থেকে নিঃসৃত ক্লোরোফ্লুরো কার্বন বায়ুমণ্ডলের অতিবেগুনী রশ্মির সাথে বিক্রিয়া করে ওজোন হোল সৃষ্টি হয়। 


51. B.O.D-বলতে কী বোঝ? 

উঃ B.O.D বা বায়লজিক্যাল অক্সিজেন ডিমাণ্ড বা জীব রাসায়নিক চাহিদা বলত জলজ ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অনুজীবদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ও বারবৃদ্ধির জন্য জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের চাহিদা বোঝায়। 


52. ইউট্রোফিকেশন বলতে কী বোঝ? 

উঃ যে পদ্ধতিতে হ্রদের তলদেশে জৈব পদার্থ ক্রমাগত জমা হওয়ার ফলে হ্রদ ভরাট হয় তাকে ইউট্রোফিকেশন বলে। 


53. আর্সেনিক দূষণ কাকে বলে? 

উঃ অতিরিক্ত আর্সেনিক যুক্ত হয়ে জল বা মাটি দূষিত হলে তাকে আর্সেনিক দূষণ বলে। 


54. শব্দদূষণ কাকে বলে? 

উঃ শব্দ যখন মানুষের সহনক্ষমতা অতিক্রম করে তখন তাকে শব্দ দূষণ বলে। 


55. শব্দদূষণ পরিমাপের একক কী? 

উঃ শব্দ দূষণ পরিমাপের একটি বহুল প্রচলিত একক হল ডেসিবেল। 


56. শব্দদূষণের দুটি ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ কর।

উঃ মানুষের কর্মদক্ষতা হ্রাস পায় ও স্মৃতি-শক্তি কমে যায়। 


57. কীটনাশক দূষণ কী? 

উঃ অতিরিক্ত বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে অবাঞ্ছিত কীটপতঙ্গ মারার সাথে সাথে জল মাটি বাতাস উদ্ভিদ প্রাণী এবং মানুষের শারিরীক ক্ষতি যখন হয় তাকে কীটনাশক দূষণ বলে। 


58. চের্নোবিল দুর্ঘটনা কী? 

উঃ ১৯৮৬ সালের ২৬ শে এপ্রিল ইউক্রেনের চের্নোবিল শহরে পারমানবিক শক্তি কেন্দ্রে যে বিস্ফোরণ ঘটে তাকে চের্নোবিল দুর্ঘটনা বলে। 


59. চের্নোবিল দুর্ঘটনার কারণ কী? 

উঃ চের্নোবিল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে তেজস্ক্রিয় ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হত। এখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলেও দুর্ঘটনার দিন সেগুলি চালু ছিল না, ফলে পারমানবিক চুল্লীর ভিতরে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রচণ্ড গরম হয়ে যায় ও বিস্ফোরণ ঘটে। 


60. ভারতের কোন কোন রাজ্যে সৌর শক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে? 

উঃ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, গুজরাট ইত্যাদি রাজ্যে। 


61. জোয়ার-ভাটা শক্তি কাজে লাগানো হয় এমন দুটি দেশ কী কী? 

উঃ কানাডা, ইংল্যাণ্ড, আর্জেন্টিনা। 


62. পারমাণবিক শক্তি থেকে ভারতের কোথায় কোথায় বিদ্যুৎ তৈরি হয়? 

উঃ তারাপুর, কালপক্কম, নাড়োরা। 


63. ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনা কবে, কোথায় ঘটেছিল? 

উঃ ১৯৮৪ সালের ২-৩ ডিসেম্বরের মাঝরাতে মধ্যপ্রদেশের রাজধানি ভূপালে ইউনিয়ন কার্বাইড কারখানায়। 


64. MIC কী? 

উঃ MIC গ্যাসের বিজ্ঞানসম্মত নাম হল মিথাইল আইসোসায়ানেট। এই গ্যাস। এই গ্যাস থেকে কার্বোরিল বা সেভিন নামক কীটনাশক উৎপাদন করা হয়। 


65. Silent Valley কোথায় অবস্থিত? Silent Valley নামকরণের কারণ কী? 

উঃ দক্ষিণ ভারতের কেরল রাজ্যে পালঘাট জেলায় ক্রান্তীয় বৃষ্টি অরণ্যে ঢাকা উপত্যকার নাম হল সাইলেণ্ট ভ্যালি। পাহাড়ি অরণ্য সংকুল এই অঞ্চলের পরিবেশ প্রচণ্ড শান্ত ও নিস্তব্ধ বলে একে সাইলেণ্ট ভ্যালি বলা হয়। 


66. গঙ্গা উন্নয়ন প্রকল্প প্রথম কবে চালু হয়? 

উঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ১৯৮৬ সালের ১৪ই জুন বারাণসীতে আনুষ্ঠানিকভাবে গঙ্গা উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। 


67. তেজস্ক্রিয়তা সর্বপ্রথম কে আবিষ্কার করেন? 

উঃ ১৮৯৬ খ্রীষ্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী হেনরি ব্যাকারেল। 


68. রেডিয়াম কে আবিষ্কার করেন? 

উঃ ১৯০২ খ্রীষ্টাব্দে মাদাম কুরি ও তার স্বামী পিয়ের কুরি। 


69. তেজস্ক্রিয় পদার্থ কোথায় কোথায় ব্যবহৃত হয়? 

উঃ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানী হিসাবে, পারমাণবিক বোমা প্রস্তুতিতে, চিকিৎসা শাস্ত্রে এবং গনেষণাগারে ট্রেসার মৌল হিসাবে। 


70. পরিবেশে স্বাভাবিক তেজস্ক্রিয়তার গড় মান কত? 

উঃ বার্ষিক গড় মান ১০৫ Mrem। 


71. কোন রশ্মি বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তার সৃষ্টি করে? 

উঃ কসমিক রে বা মহাজাগতিক রশ্মির বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে কিছু কম অর্ধজীবনকাল সম্পন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থ উৎপন্ন করে। যেমন – কার্বন-১৪ (C14)। 


72. মাটিতে প্রধানতঃ কোন কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থাকে? 

উঃ প্রধানতঃ পটাসিয়াম-৪০ (K40) এবং রুবিডিয়াম–৮৭ (Rb)। 


73. বায়ু কিভাবে তেজস্ক্রিয় পদার্থ দ্বারা দূষিত হয়? 

উঃ তেজস্ক্রিয় পদার্থের খনন, ধৌতকরণ ও বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় বায়ু তেজস্ক্রিয় তেজস্ক্রিয় পদার্থ দ্বারা দূষিত হয়। 


74. রেম এককে কী মাপা হয়? 

উঃ রেম এককে তেজস্ক্রিয় বিকিরণে মানুষের শরীরে সম্ভাব্য ক্ষতির মাত্রা প্রকাশ করা হয়। 


75. র‍্যাড কাকে বলে? 

উঃ শরীরে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের শোষণের পরিমাণের একককে র‍্যাড বলে। 


76. দুটি তেজস্ক্রিয় ট্রেসার মৌলের নাম লেখ। 

উঃ কার্বন–১৪ (C14) এবং আয়োডিন–১২৫ (I125)। 


77. পারমাণবিক চুল্লী নির্গত বর্জ্যপদার্থে কোন কোন ক্ষতিকারক বস্তু থাকে? 

উঃ আয়রণ–৫৯ (Fe59) এবং কোবাল্ট–৬০ (Co60)। 


78. অর্ধজীবনকাল কাকে বলে? 

উঃ বিকিরণের ফলে যে সময়কালে তেজস্ক্রিয় পদার্থটির পরমাণু সংখ্যা প্রাথমিক পরমাণুর সংখ্যার অর্ধেক হবে তাকে সেই তেজস্ক্রিয় পদার্থের অর্ধজীবনকাল বলে। 


79. তেজস্ক্রিয় দূষণে মানুষের শরীরে কোন কোন রোগের সৃষ্টি হয়? 

উঃ প্রধানতঃ রক্তাল্পতা, ব্লাড ক্যানসার, বিভিন্ন অঙ্গের ক্যান্সার, স্নায়বিক বৈকল্য প্রভৃতি। 


80. দুটি মারাত্মক পারমাণবিক বিস্ফোরণের নাম লেখ। 

উঃ জাপানের হিরোসীমা ও নাগাসাকিতে পরমানু বোমা বিস্ফোরণ এবং রাশিয়ার চের্নোবিলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্ঘটনা। 


81. তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পদার্থকে কিভাবে অপসারণ করা হয়? 

উঃ তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পদার্থকে একটি ইস্পাতের পাত্রে রেখে মাটির গভীরে বা সমুদ্রের নীচে নিষ্ক্রান্ত করা হয়। 


82. রেডিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা ইউরেনিয়ামের চেয়ে কত গুণ বেশি? 

উঃ দশ লক্ষ গুণ বেশি। 


83. তেজস্ক্রিয় মৌল প্রধানত কোথায় ব্যবহৃত হয়? 

উঃ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। 


84. বায়ুতে যে তেজস্ক্রিয় মৌল পাওয়া যায় তার নাম কী? 

উঃ রেডন (রেডন-২২২), থোরণ (রেডন-২২০)। 


85. পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ করার আন্তর্জাতিক চুক্তির নাম কী? 

উঃ কমপ্রিহেনসিভ নিউক্লিয়ার টেস্ট ব্যান ট্রিটি। 


86. তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ফলে জীবদেহে কী ক্ষতি ঘটে? 

উঃ জেনেটিক মিউটেশন ঘটে। 


87. তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ক্ষতিকর বস্তুগুলি কী কী? 

উঃ আলফা কণিকা, বিটা কণিকা ও গামা রশ্মি। 


88. জাপানের নাগাসাকি যে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল তার নাম কী? 

উঃ ফ্যাটম্যান। 


89. কত কম্পাঙ্ক যুক্ত শব্দ আমরা শুনতে পাই? 

উঃ শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক প্রতি সেকেণ্ডে হলে ২০ থেকে ২০০০০ বার হলে আমরা শুনতে পাই। 


90. শব্দের তীক্ষ্মতা কিসের উপর নির্ভর করে? 

উঃ কম্পাঙ্কের উপর নির্ভর করে। কম্পাঙ্ক যত বাড়ে শব্দের তীক্ষ্মতাও তত বাড়ে। আবার শব্দের কম্পাঙ্ক যত কমে তীক্ষ্মতাও তত কমে। 


91. শব্দের প্রাবল্য কোন এককে মাপা হয়? 

উঃ ডেসিবেল এককে। 


92. দিনের চেয়ে রাতের বেলায় শব্দ বেশি জোরে শোনা যায় কেন? 

উঃ মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বাড়ে। দিনের বেলায় বায়ু উত্তপ্ত থাকার ফলে বায়ুর ঘনত্ব রাতের ঘনত্বের থেকে কম হয়। এই কারণে দিনের চেয়ে রাতে শব্দ বেশী জোরে শোনা যায়। 


93. শব্দদূষণের প্রধান উৎসগুলি কী কী? 

উঃ বিভিন্ন কলকারখানা, যানবাহন, বাইক, টিভি প্রভৃতি। 


94. কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্ধারিত মান অনুযায়ী বসতি অঞ্চলে দিন ও রাতের শব্দসীমা কত হওয়া উচিত? 

উঃ দিনের বেলায় ৫০ ডেসিবেল এবং রাতের বেলায় ৪৫ ডেসিবেল। 


95. ট্রেনের হুইসেল যে শব্দদূষণ হয় তার মাত্রা কত? 

উঃ ৯০ ডেসিবেল। 


96. শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের অবসাদ কাকে বলে? 

উঃ ৯০ ডেসিবেলের বেশী মাত্রার শব্দ আমাদের কানে এলে সেটি শ্রবণ অঙ্গকে সাময়িকভাবে অকেজো করে তোলে এবং কানের মধ্যে ক্রমাগত ভোঁ ভোঁ শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনাকে শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের অবসাদ বলে। 


97. আমাদের শ্রবণ যন্ত্রে শ্রুতিগ্রাহক অঙ্গ কোনটি? 

উঃ অর্গান অব কর্টি। 


98. শব্দের মাত্রা কতখানি হলে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে? 

উঃ ১৬০ ডেসিবেলের বেশী। 


99. শব্দ দূষণের ফলে রক্তের কোন কোন রোগ দেখা যায়? 

উঃ হাইপোকেলিমিয়া, ইওসিনোফিলিয়া প্রভৃতি। 


100. কোন শব্দ দূষণের প্রভাবে ঘরের কাঁচ নির্মিত জানালা ভেঙে যায়? 

উঃ সুপারসনিক বিমানের সনিক বুমের ফলে। 


101. শব্দদূষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাড়িঘরে কি ব্যবস্থা অবলম্বন করা উচিত? 

উঃ ঘরবাড়ি তৈরীর সময় শব্দ শোষক টাইলস ব্যবহার করা হয়। 


102. পরিবেশকে শব্দ দূষণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত? 

উঃ উদ্ভিদরা শব্দ শোষণ করে। তাই বেশি সংখ্যায় গাছ লাগানো উচিত। 


103. গাড়িতে শব্দদূষণ রোধে কোন যন্ত্রের ব্যবহার করা হয়? 

উঃ সাইলেন্সার। 


104. হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতির কত দূরত্ব পর্যন্ত নিরব অঞ্চল ঘোষণা করা হয়ে থাকে?

উঃ ১০০ মিটার পর্যন্ত। 


105. আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত কোন কোন যন্ত্রাদি শব্দ দূষণ ঘটায়? 

উঃ টিভি, ওয়াশিং মেশিন, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার প্রভৃতি। 


106. শব্দের মাত্রা কত ডেসিবেলের বেশি হলে আমাদের শারীরবৃত্তীয় ক্ষতি শুরু হয়? 

উঃ ৯৫ ডেসিবেলের বেশি। 


107. ভারী ধাতু কাকে বলে? 

উঃ যেসকল ধাতু মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীদেহে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে তাদের ভারী ধাতু বলে। যেমন অ্যালুমিনিয়াম, আর্সেনিক, সীসা, পারদ প্রভৃতি। 


108. খনিজ তেলে উপস্থিত কোন ধাতুর ফলে পরিবেশ দূষিত হয়? 

উঃ লেড (Pb) বা সীসা। 


109. মানব শরীরের কোন অঙ্গ দ্বারা বিষাক্ত ধাতু নিষ্কাশিত হয়? 

উঃ কিডনীর দ্বারা। 


110. নেফ্রোটক্সিক ধাতু কাকে বলে? 

উঃ যেসকল ধাতু কিডনি বা নেফ্রনের ক্ষতি করে তাদের নেফ্রোটক্সিক ধাতু বলে। যেমন – সীসা, পারদ প্রভৃতি। 


111. সীসার কোন যৌগগুলি সবচেয়ে বিষাক্ত? 

উঃ লেড অক্সাইড, লেড আর্সনেট ও লেড কার্বনেট। 


112. সীসার কোন যৌগ কীটনাশক হিসাবে ব্যবহৃত হয়? 

উঃ লেড আর্সনেট। 


113. সীসার কোন যৌগ ত্বকের দ্বারা শোষিত হয়? 

উঃ টেট্রা ইথাইল লেড। 


114. সীসার আক্রান্ত রুগীকে কিভাবে চিকিৎসা করা হয়? 

উঃ সীসা আক্রান্ত রোগীর রক্তে স্যালাইনের মাধ্যমে ক্যালসিয়ার চিলেট প্রয়োগ করা হয়। 


115. পাণীয় জলে সীসার গ্রাহ্যমাত্রা কত? 

উঃ ০.০৫ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার। 


116. মিনমাটা রোগ কোন ধাতুর বিষক্রিয়ায় দেখা যায়? 

উঃ পারদ-এর। 


117. মিনামাটা রোগ প্রথম কোথায় দেখা দেয়? 

উঃ জাপানে। 


118. পারদের প্রধান আকরিকের নাম কী? 

উঃ সিনারার। 


119. দুটি পারদযুক্ত ছত্রাকনাশকের নাম লেখ? 

উঃ মিথাইল মারকারী নাইট্রাইল ও মিথাইল মারকারী অ্যাসিটেট 


120. পারদের বিষক্রিয়ায় ভ্রূণের কী ক্ষতি হয়? 

উঃ পারদ গর্ভস্থ ভ্রুণের স্নায়ুতন্ত্রের উপর ক্রিয়া করে। ফলে জন্মের সময় শিশুর জন্মগত ত্রুটি যেমন সেরিব্রাল পলসি, মানসিক ত্রুটি প্রভৃতি দেখা যায়। 


121. কোন কোন দেশে আর্সেনিক দূষণ মহামারীর আকারে দেখা গিয়েছিল? 

উঃ থাইল্যাণ্ড ও মেক্সিকোয়। 


122. পানীয় জলে আর্সেনিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা কত? 

উঃ ০.০৫ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার। 


123. কোন ধাতুর প্রভাবে ব্ল্যাকফুট ডিজিজ দেখা যায়? 

উঃ আর্সেনিকের (As) প্রভাবে। 


124. পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন জেলায় আর্সেনিক দূষণ প্রবলভাবে দেখা যায়? 

উঃ দক্ষিণ ২৪ পরগণা, মালদা ও মুর্শিদাবাদ। 


125. ইটাই ইটাই রোগ কোন ধাতুর প্রভাবে দেখা যায়? 

উঃ ক্যাডমিয়াম ধাতুর প্রভাবে। 


126. তামাক সেবনের ফলে কোন ধাতু শরীরে বিষাক্ত প্রভাব বিস্তার করে? 

উঃ ক্যাডমিয়াম (Cd)। 


127. ক্যাডমিয়াম কতখানি ডোজ মানুষের পক্ষে মারাত্মক? 

উঃ প্রায় ১ গ্রাম ক্যডমিয়াম মানুষের মুখের দ্বারা শরীরে প্রবেশ করলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। 


128. ক্যাডমিয়াম হাড়ের কোন ধাতু প্রতিস্থাপিত করে? 

উঃ ক্যালসিয়াম (Ca)। 


129. মানুষের পানীয় জলে ক্যাডমিয়ামের গ্রাহ্যমাত্রা কত? 

উঃ ০.০১ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার। 


130. ক্যাডমিয়াম বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত মানুষকে কি দ্বারা চিকিৎসা করা হয়? 

উঃ মেটালো থিওনিন নামক প্রোটিন দ্বারা। 


131. বিষাক্ত ধাতু আমাদের শরীর থেকে কিভাবে নিষ্কাশিত হয়? 

উঃ কিডনির মাধ্যমে। 


132. যে সকল ধাতু কিডনির ক্ষতি করে তাকে কী বলে? 

উঃ নেফ্রোটক্সিক ধাতু। 


133. ব্যাকফুট ডিজিজ কার প্রভাবে হয়? 

উঃ আর্সেনিকের (As) প্রভাবে। 


134. তামাক পাতায় উপস্থিত ক্ষতিকর ধাতুর নাম কী? 

উঃ ক্যাডমিয়াম (Cd)। 


135. বিভিন্ন কীটনাশকগুলি পাখীদের কি ক্ষতি করে? 

উঃ পাখীদের ডিমের খোলস পাতলা করে দেয়। 


136. DDT জাতীয় কীটনাশকের ক্রিয়া কতদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকে? 

উঃ মাটিতে প্রয়োগের পরেও প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত তার রাসায়নিক ক্রিয়া বজায় থাকে। 


137. দুটি অর্গানোফসফরাস যৌগের নাম লেখ? 

উঃ প্যারাথিয়ন ও ম্যালাথিয়ন। 


138. কোন ধরণের ছত্রাকনাশক যৌগ মারাত্মক বলে পরিগণিত হয়? 

উঃ যে সকল ছত্রাকনাশক যৌগে তামা ও পারদের যৌগ উপস্থিত থাকে সেগুলি মানুষদের পক্ষে মারাত্মক বলে পরিগণিত হয়। 


139. কোন ধরণের কীটনাশকগুলিতে উন্নত দেশে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে? 

উঃ ক্লোরিনেটেড হাইড্রোকার্বন (DDT, BHC ইত্যাদি)। 


140. কোন ধরণের কীটনাশক মৌমাছি ও বোলতার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক? 

উঃ কার্বামেটস। 

No comments:

Post a Comment